অগ্নিপুরুষ (মাসুদ রানা)


বই এর তাক গুছাতে গিয়ে চোখে পড়ে যায় প্রিয় পড়া একটি বই মাসুদ রানা সিরিজের অন্যতম সেরা একটি বই অগ্নিপুরুষ ।আজকের রিভিও রানা সিরিজের অগ্নিপুরুষকে নিয়েই । 

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই বই ছিল  এ.জে. কুইনেলের ম্যান অন ফায়ার(Man on Fire(1980)- A.J. Quinnell) এর থেকে এডাপ্টেড ।  

সারাংশ 

১২ বছরের ইতালিয়ান মেয়ে লুবনা আভান্তি। বাবা ভিটো আভান্তি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আর মা লরা আভান্তি ব্যস্ত সমাজে নিজের স্ট্যাটাস রক্ষায়। লুবনার সঙ্গী নেই কেউ। এমনি সময়, ক্রমবর্ধমান অপহরণের ভয়ে আর খানিকটা স্ট্যাটাসের খাতিরে লুবনার জন্য নিয়োগ দেয়া হল এক বডিগার্ড- ইমরুল হাসান। কেমন করে ভীনদেশী যুবক হাসান আর ছোট্ট মেয়ে লুবনার বন্ধুত্ব হলো তাই দিয়ে এ কাহিনী শুরু। এ কাহিনী অসম দুই মানুষের নিষ্কাম ভালবাসার, এ কাহিনী ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে তীব্র বেদনায় আক্রান্ত হবার, এ কাহিনীর নির্মম প্রতিশোধের। 

মাসুদ রানা সিরিজের পাঁড় ভক্ত যারা, তারা মাত্রই জানেন, এ কাহিনী ‘অগ্নিপুরুষ’ গল্পের। সিআইএ এর মুখের সামনে থেকে সোভিয়েত মিগ ছিনতাই করে আনায় (চারিদিকে শত্রু), সিআইএ আর মোসাদ মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে পাগলা কুকুরের মত খুঁজে বেড়াচ্ছে মাসুদ রানাকে। বস মে. জে. রাহাত খানের পরামর্শে তাই রানা আত্মগোপনে চলে আসে ইতালীতে, পুরানো বন্ধু রেমারিকের আস্তানায়, সদ্য মৃত মার্সেনারি ইমরুল হাসানের ছদ্মবেশে। এখানেই সময় কাটাবার জন্য নামমাত্র পারিশ্রমিকে লুবনার বডিগার্ডের চাকরিটা নিয়ে নিল সে। চাইছিল চুপচাপ কাটিয়ে দেবে সময়টা। কিন্তু, পাগলী মেয়েটা আস্তে আস্তে দখল করে নিলো রানাকে। অগোচরে কখন যে ওরা বন্ধু হয়ে গেল, স্নেহের কাঙাল মেয়েটা কখন যে তাকে এক অমোঘ বাঁধনে বেঁধে নিল, অসংখ্য মিশনের সফল স্পাই মাসুদ রানা টেরটিও পেল না! ভালবেসে লুবনা তাকে একটা ইংরেজী অনুবাদকৃত কোরান শরীফ দিল। আর উপহার দিল একটা ইতালীয়ান গান- “এক সময় থেমে যাবে সমস্ত কোলাহল, ঘুমিয়ে পড়বে ধরণী। আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটা মিটমিট করলে বুঝবে আমি তোমায় ডাকছি। সে রাতে তুমি জেগে থেকো, বন্ধু, ঘুমিয়ে পোড়ো না। আর, হ্যাঁ, ফুলের গন্ধ পেলে বুঝে নিয়ো আমি আসছি। আর যদি কোকিল ডাকে, ভেব আমি আর বেশী দূরে নেই। তারপর হঠাৎ ফুরফুরে বাতাস এসে তোমার গায়ে লুটিয়ে পড়লে, বুঝবে আমি এসেছি। সে রাতে তুমি জেগে থেকো, বন্ধু, ঘুমিয়ে পোড়ো না।” 

ভালই কাটছিল দিনগুলো, হাসি-আনন্দে। হঠাৎ একদিন, সত্যি সত্যিই অপহরণের শিকার হলো লুবনা। ছয়মাস সব ধরনের ট্রেনিংয়ের বাইরে থাকা মাসুদ রানা উপস্থিত থেকেও ঠেকাতে পারলো না। দু’জন অপহরণকারী তার হাতে মারা গেলেও অন্য দু’জনের গুলিতে গুরুতর আহত হল সে। বাঁচার আশা ছেড়ে দিলেন ডাক্তারেরা। হাসপাতালের বেডে শুয়েই রানা শুনতে পেল লুবনাকে মেরে ফেলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে বাচ্চা হয়েছে রেপের শিকার! প্রতিশোধের আগুন মাসুদ রানার ভেতরে বেঁচে থাকার তীব্র আকূতি তৈরী করে দিল। ডাক্তারদের ধারনাকে ভুল প্রমান করে বেঁচে উঠলো রানা। 

দুঃখী মেয়েটার মৃত্যুর জন্য এবার তার প্রতিশোধ নেবার পালা। বন্ধু রেমারিকের পরামর্শে চলে গেল গোজো, রেমারিকের শ্বশুর বাড়ি। উদ্দেশ্য প্রতিশোধ শুরুর আগে শরীরটাকে ঝালিয়ে আবার আগের মত ক্ষুরধার করে তোলা। কিন্তু, ঐ গানটা তাকে ঘুমাতে দেয় না। আপন মনে সে বলে ওঠে, “জেগে আছি, আমি জেগে আছি।” এভাবেই শেষ হয় প্রথম পর্ব। 

দ্বিতীয় পর্ব শুধুই ঘৃনার, প্রতিজ্ঞা আর প্রতিশোধের। গোজোতে এক মাসের নিবিড় অনুশীলন মাসুদ রানাকে আগের মতই ইস্পাতে পরিণত করে। সেখানে তার প্রেমে পড়ে ভায়োলা। কিন্তু মাসুদ রানা , “একা। টানে সবাইকে কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না।” তারপরেও গোজো থেকে ফিরবার আগে ভায়োলা তাকে দিয়ে আবার গোজোতে ফিরে আসবার প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেয়। 

স্পেনে ফিরে লুবনা অপহরণের সাথে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্জলা যুদ্ধ ঘোষনা করে রানা। বন্ধু রেমারিক আর গগলের কাছ হতে একগাদা অস্ত্র নিয়ে শুরু হয় তার মিশন। ছোট পুঁটি হতে শুরু করে বড় রুই-কাৎলা কেউই রেহাই পাবে না তার হাতে। আর তাই করতে গিয়ে সে আবিষ্কার করে এ অপ্রিয় সত্য। লোভী উকিল লোরানের পরামর্শে বাবা ভিটো আভান্তি নিজেই মাফিয়াকে দিয়ে লুবনাকে অপহরণ করায়! উদ্দেশ্য, লুবনার নামে করা ইন্সুরেন্সের টাকা দিয়ে ডুবতে বসা ব্যবসাকে আবার চাঙা করে তোলা। কিন্তু, লুবনার মৃত্যু সবকিছুকে এলোমেলো করে দেয়। লোরান মারা যায় রানার হাতে, আর ভিটো আত্মহত্যা করে। রানার হাতে একে একে মারা যায়, অগাস্টিন, এলি, বেরলিংগার। ইতালীয়ান মাফিয়ার ভীত কেঁপে ওঠে। কিন্তু, রানার হাত হতে নিস্তার নেই। লুবনার জন্য এখনো তার হৃদয়ে রক্তক্ষরন; এখনো সেই গানটা তাকে ঘুমাতে দেয় না। ডন বাকালাও এ অপহরণের সাথে জড়িত ছিল। অতএব, সবশেষে মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রানা বাকালার দূর্গে ঢুকে পড়ে। ধূলোয় মিশিয়ে দেয় অত্যাচারের প্রাসাদ। গুরুতর আহতাবস্থায়ও পিষে মারে বাকালাকে। প্রতিশোধ শেষ হয় রানার। অজ্ঞান হয়ে যাবার আগে বিড়বিড় করে রানা বলে ওঠে, “এবার আমি ঘুমাব, লুবনা, এবার আমি ঘুমাব।” 

বইয়ের শেষে মাফিয়ার হাত হতে মাসুদ রানাকে রক্ষার জন্য তার মৃত্যুর একটা ক্যামোফ্লেজ তৈরী করা হয়। পত্রিকায় ছাপানো হয়,”এদেশের মিষ্টি এক মেয়ে একটা গান উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশের এক দুঃসাহসী যুবককে।……..এই পবিত্র ভালবাসার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে সেই বিদেশী যুবক। ” 

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অগ্নিপুরুষ (মাসুদ রানা)

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles