আই এম জিপিএ ফাইভ


মোস্তফা কামাল মান্না :   আগে একটা সময় ছিলো যখন পড়াশোনায় বাধ্যবাধকতা ছিলো না। তাই সৃজনশীলতা ছিলো। আজকাল এত এত বাধ্যবাধকতা যে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে। যতই সৃজনশীল পদ্ধতি আবিষ্কার হোক,  সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে না। আগে যে যাই পড়ত আগ্রহ নিয়ে পড়ত।  মজা  পেয়ে পড়ত। পড়ার মাঝে চাপ ছিলই না। আজকাল কে কার থেকে বেশি মার্ক পেলো, কে জিপিএ ৫ পেলো এগুলোই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। শিক্ষার্থী কতটুকু শিখল তা কোনো গুরুত্ব পায় না।  এর জন্যে অবশ্য ছাত্র ছাত্রীদের কোনো দোষ নেই। আমাদের সিস্টেম ই এমন। বাবা মা নিজেরা ছোট থাকতে যে স্বপ্ন দেখেছেন কিন্তু পূরণ করতে পারেন নি সেই দায়িত্ব নিতে হয় তাদের ছেলে মেয়ের। আমাদের দেশে ছোট থাকতেই ছেলে মেয়েদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় যে তুমি বড় হয়ে এটা হবে। ওইটা হবে। বাবা মামা নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে নাই। তাই সন্তানকে তা পূরণ করতে হবে।  অনেক ক্ষেত্রে বড় হয়েও তারা নিজের মনে ইচ্ছা বলতে পারে না কারণ বাবা না কষ্ট পাবে ভেবে।  ছোট থেকেই তাই বাচ্চাদের উপর শুরু হয় ১ম ২য় ৩য় হবার প্রতিযোগিতা। এর উপর আমাদের ২য় ৩য় শ্রেণীর কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া বাচ্চারা তাদের নিজেদের ওজনের থেকেও বেশি  পরিমাণ বই বহন করে, এর যৌক্তিকতা কোথায় তা আজ পর্যন্ত কেউ বুঝাতে পারে নি। আমাদের দেশের  কেজি স্কুল গুলো নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা করে কে কার থেকে বেশি বই পড়াবে। বাবা মা ও মনে করে বাচ্চা যত বেশি বই পড়বে তত বেশি মার্ক পাবে। পাশের বাসার ভাবির সাথে গল্প করতেও ভোলে না “ভাবি আমার ছেলের ১৪ টা বই।” ভাবি আবার বলেন ” আমার রাতুলের বই এবার ১৬টা।” এটা কি আসলে গর্বের বিষয়? ছেলে মেয়ে কতটুকু শিখছে তার থেকে অভিভাবক বেশি গুরুত্ব দেয় ছেলে মেয়ে ১ম হল নাকি ২য়।  বাচ্চারা যত টুকু শিখছে তাও কি সঠিক? যখন সমকোণী ত্রিভুজ এর বর্ণনায় সমকোণী কোণ দেয়া থাকে আর ছাত্রের তাই পরীক্ষায় লিখতে হবে বলা হয় অথবা আয়ত ক্ষেত্র আঁকতে যেয়ে যখন কোন ম্যডাম ছাত্রদের বর্গ একে দেখান তখন শিক্ষা মাধ্যম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন যে সেখান থেকে শেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। পাশ করতে হবে তাই পড়তে হবে। এমন না যে শিখতে হবে তাই পড়তে হবে। পরীক্ষায় মার্ক দেয়া হয় খাতার ওজন মেপে। কি লিখেছে তা কেউ দেখতে চায় না।  তার উপর পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে নকল কি বাচ্চারা তা শিখে ফেলছে। আগে আগেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এসএসসি এইচএসসিতে শুধু পাশ করলেই হবে না।  কি শিখেছে  তার কোনো গুরুত্ব নেই। জিপিএ ৫ পেতেই হবে।  তা নাহলে লজ্জায় মুখ দেখানো যাবে না। এই  জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্ররাই পরে এডমিশন টেস্টে পাশ করেতেই পারে না। সমস্যা কোথায় তা সবার কাছে ওপেন সিক্রেট। কিন্তু সমাধান কোথায়? একটা সময় বাংলাদেশের অনেক ছাত্র ছাত্রী হাভার্ড/অক্সফোর্ড এর মত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে, গবেষণা করার সুযোগ পেয়েছে। সেই তুলনায় এখন আরো বেশি ছাত্র ছাত্রী সুযোগ পাবার কথা। তারা কি সুযোগ পেয়েছে? সেই হার বরং কমে গেছে। একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে।  সেই মান কি   আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ধরে রাখতে পেরেছে?           আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে  পড়তে যাই ডিগ্রী অর্জনের জন্যে, শিখতে যায় কয়জনে? যারাও দুই-একজন শিখতে চায় আমরা কি তাদের শিখতে সুযোগ দেই? যারা সত্যিই শিখতে চায় তারা যথাযথ মূল্যায়ন  পায় না।   আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে আগামী কয় বছর পরে আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা বিদেশে পড়ালেখার সুযোগ পাবে না।   কারণ তাদের যদি বলা হয়,  ” আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি।” এর ইংরেজি কি তারা বলবে, ” I am gpa 5.”


Like it? Share with your friends!

0

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আই এম জিপিএ ফাইভ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles