আগামীর বাংলাদেশ

পদ্মাসেতুর দুই পার। দুই পারে হাজার হাজার পরিবেশবান্ধব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চার লেইনের রাস্তা দিয়ে চলেছে ঢাকা খুলনা ঢাকা, খুলনা চট্টগ্রাম খুলনা পথে ট্রেনের পর ট্রেন, বা


লিখেছেন ঃ

খাজা নিজাম উদ্দিন

যাবেন নাকি মাওয়ায় পদ্মার অরিজিনাল ঘ্রাণের ইলিশ খেতে? তার আগে দুটো কথা বলে নেই 🙂

পদ্মাসেতুর দুই পার। দুই পারে হাজার হাজার পরিবেশবান্ধব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চার লেইনের রাস্তা দিয়ে চলেছে ঢাকা খুলনা ঢাকা, খুলনা চট্টগ্রাম খুলনা পথে ট্রেনের পর ট্রেন, বাসের পর বাস, ট্রাকের পর ট্রাক! মানুষের সাথে সাথে পণ্য পরিবহনের বিশাল বহরের আসা যাওয়া!

পদ্মার এপারে মুন্সিগঞ্জ নামে একটা জেলা আছে। সেই জেলার মানুষগুলোর একটা অসাধারণ গুণ আছে। সেটা হলো এদের রক্তে মাংসে ব্যবসা। সারা দেশের মানুষ যখন মধ্যেপ্রাচ্যে দৌড়িয়েছে, তখন এরা গেছেন জাপান! সিলেট যেমন লন্ডন বুঝে, মুন্সিগঞ্জ বুঝে জাপান! আর হঠাত করে বাংলাদেশের আরেকটু জেলা ধনি হয়েছে, তার নাম শরিয়তপুর, রেমিটেন্সে উপচে পড়া একটি জেলা – পুরো ইটালির আনাচে কানাচে আপনি শরিয়তপুরের লোকজন পাবেন।

পদ্মার দুই পারেই এখন ধনি লোকের প্রচুর সমাগম। পদ্মাসেতুর প্রত্যেকটা সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য তৈরি এবং কাজও শুরু হয়ে গেছে!

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ করা লাখ লাখ অদক্ষ ছেলেমেয়েদের চেয়ে মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালি, চট্টগ্রামের মতো এলাকার মানুষ দেশের অনেক বেশি দরকার – যাদের রক্ত মাংসে ব্যবসা কাজ করে এবং ব্যবসা তারা দারুণ বুঝে।

নিশ্চয় আপনি মাওয়া গেছেন। মাওয়ার ইলিশ না খেয়ে থাকলে দুনিয়ার সেরা কিছু আপনি মিস করেছেন। যেতে যেতে দুপারে প্রচুর বিস্তির্ন জায়গা দেখেছেন নিশ্চয়?

ওটা আরেকটা ঢাকা হবে। একটা বিশাল সম্ভাবনা। ভারতের সবচেয়ে বড় রিয়েল অ্যাস্টেটের লোকজন এসেছিলো সেই নতুন ঢাকা তৈরি করতে। দরকার নেই। আমরাই করবো।

পদ্মা সেতুর বিশাল সম্ভাবনা যারা আগাম বুঝতেছে, তারা কিন্তু ১০০ মেইল বেগে দৌড় শুরু করে দিয়েছে। কে সরকারের দালাল আর সে সরকারের দালাল না, এসব হিসাবের সময় ব্যবসায়ীদের নেই। আমাদের ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশ সেই সুযোগ পুরো কাজে লাগানোর জন্য দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছেন!

ও হ্যাঁ, একটা বড় এয়ারপোর্ট যদি হয়, কেমন হয়? কর্নফুলি নদির উপর দিয়ে যখন প্লেন নামে, দারুণ লাগে, তাই না! সময়টা বেশি দূরে নয়, প্লেনে বসে আস্তে আস্তে মনে হবে পদ্মায় নেমে যাচ্ছেন!

শুনেছেন নিশ্চয়, মহেশখালিতে সব মিলে লাখ কোটি টাকার পাওয়ার প্লান্ট হতে যাচ্ছে! দেশের নানা বিদ্যুতের বিশাল আয়োজন চলছে – বিশাল্ভাবে। এক সময় ১৫০০ মেগাওয়াট নিয়ে চলেছি! এখন টার্গেট নাকি ৪০,০০০ মেগাওয়াট! শুনেই মাথা ঘুরে যায়!

এতো বিদ্যুত কাদের জন্য? আগামী বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য। আগামীর বাংলাদেশ ব্যবসার বাংলাদেশ।

ও হ্যাঁ, এখন পার ক্যাপিটা কতো? মাত্র ১৬১০ ডলার! খুবই কম! অন্য দেশের ৪০,০০০ ডলার কিংবা ৫০,০০০ ডলার! তার মানে আমরা পুটি মাছও না! তবে চিন্তার কিছু নেই, মাত্র কয়েক বছর আগেও ছিলো মাত্র ৩০০ ডলার! সেই কথা মনে করে লজ্জা পাওয়ার কিছুই নাই!

এই আয় ৩০০০ ডলার হবে, সময় খুব বেশি দেরি নেই। ১৬১০ ডলারেই ঈদের বাজার ৩ লাখ কোটি টাকা! বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকা! কিন্তু ৩০০০ ডলার হলে ঈদের বাজার কিন্তু ৬ লাখ কোটি টাকা হবে না, হবে ১৫ লাখ কোটি টাকার মতো!

চট্টগ্রামের চার লেন কী কী সুযোগ তৈরি করছে? ও হ্যাঁ, ঢাকা খুলনাও নাকি চার লেন হতে যাচ্ছে? চট্টগ্রাম ঢাকা এক্সপ্রেস ওয়ে কীভাবে বদলে দিবে অর্থনীতিকে? চার লেনের রেল হলে কী বিপ্লব ঘটবে? ঢাকার মেট্রোরেল মনে হচ্ছে হয়েই যাবে! আর প্রযুক্তির বিকাশ না হয় নাই বললাম, এক বিশাল বিপ্লব করবেই আমাদের তরুণরা, ধীরে ধীরে তারা করে যাচ্ছে, টের পাবেন, আর কয়েক বছরের মধ্যেই।

পুরো দেশটাতে যে বিশাল বিশাল মেগা প্রজেক্ট চলছে – একটা সময় ভাবতাম, এগুলো কথার কথা! এখন দেখছি, না তো – ঘটনা তো ঘটে যাচ্ছে একে একে!

এবার এই প্রজেক্টগুলোকে একটার সাথে আরেকটা কানেক্ট করুন (যেমন স্টিভ জবস বলেছেন, Connecting the dots), যদি এই সব প্রজেক্টগুলো কত বহুবিধ সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং করছে , এবং তার সাথে যদি এগুলোর আন্ত;সম্পর্ক বুঝতে পারেন, আপনি অবাক হবেন বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখে। অন্য দেশের লোকজন কিন্তু ঠিকই বুঝতেছে।

ঠিক আছে, আমাকে আপনি সরকারের দালাল বলুন! কিন্তু তারপরেও আপনি সুযোগগুলো কাজে লাগান। আমরা সবাই দালাল হই – অসুবিধা নেই, চলুন বাংলাদেশের দালাল হই।

আমার কাছে আপনি লীগ না বিএনপি না কোন দলের তা বিবেচ্য নয় এই মুহূর্তে। আমার কাছে আপনি এক বিপুল সম্ভাবনা। প্রতিদিন যতো অভিযোগ এই দেশের বিরুদ্ধে আমরা করি, তার সমাধান কোথায়?

তার সমাধান তো আপনি। কে কোন দলের এইসব বিপদজন ফাঁদের চিন্তা না করে, নিজেদের এই সুযোগ থেকে যেন বঞ্চিত না করি।

আগামী ১০ বছরের জন্য এইসব তর্ক, কুতর্ক (আওয়ামীলীগ, বিএনপি এসব তর্ক করে আমাদের আমজনতার আসলে কোন লাভ আছে? মনকে একবার জিজ্ঞেস করুন তো) বাদ দিয়ে যে বিশাল সম্ভাবনা হাতের কাছে এসেছে, তাকে কাজে লাগাই।

আগামী ১০ বছরের বাংলাদেশ – ব্যবসার জন্য সেরা দশক, শ্রেষ্ঠ সময়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে মান্ধাতা আমলের চাকুরির চিন্তা না করে ব্যবসার চিন্তাও করুন। সময় কিন্তু চাকুরির না, সময়টা ব্যবসার।

ব্যবসার এতো সুযোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ছিলো না, আগামী ১৫-২০ বছর পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের এতো সুযোগ হয়তো থাকবে না। সময়টা এখনই। এক মহাসন্ধিক্ষণে আমরা আছি। এমন সুযোগ একবারই আসে।

সেই সুযোগটা কাজে লাগাই, দেশটাকে বদলাই।

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
1
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
1
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
1
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আগামীর বাংলাদেশ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles