জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি!

সাবেক ইসরাইলি ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো বিলিয়নার্স শেলডন জে অ্যাডেলসন ট্রাম্পের নির্বাচনি ফান্ডে দান করেন ২০ মিলিয়ন ডলার। তিনি ট্রাম্পকে এ অর্থ প্রদান করেন মার্কিন দূতাবাস


২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি! মার্কিন শাসকদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে এর গোপন রহস্য।

সাবেক ইসরাইলি ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো বিলিয়নার্স শেলডন জে অ্যাডেলসন ট্রাম্পের নির্বাচনি ফান্ডে দান করেন ২০ মিলিয়ন ডলার। তিনি ট্রাম্পকে এ অর্থ প্রদান করেন মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকারের বিনিময়ে। খবর ডেইলি সাবাহর।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, অ্যাডেলসন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা জানতো ট্রাম্প অবশ্যই জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অ্যাডেলসনসহ অন্যান্য ইহুদি সহযোগিতাকারীরা ট্রাম্পকে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার জন্য চাপ দিতে থাকে।

তবে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতা করা পর্যন্ত ইসরাইলকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

প্রবন্ধের ভাষ্য অনুযায়ী অ্যাডেলসন প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে চাপ দিতে থাকে। এমনটি ট্রাম্পের সঙ্গে এক কূটনৈতিক ভোজসভায় অ্যাডেলসন বিষয়টির অবতারণা করেন।

সাবেক এই ইসরাইলি ব্যবসায়ী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিন ইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জাতীয় নির্বাচনে সে তার ক্যাসিনিওকে নেতানিয়াহুর পক্ষে ব্যবহার করে।

অ্যাডেলসন ট্রাম্পকে মার্চ ২০১৬ এর মধ্যে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু জামাতা কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের পরামর্শে ট্রাম্প এতোদিন বিলম্ব করেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষায় বেলফোর ঘোষণার পর ইসরাইল আরেক রাজনৈতিক বিজয় অর্থের বিনিময়ে কিনে নিলো।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়েছেন। ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয়ের উপরই সমানভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন ডিডাব্লিউর রাইনার জলিচ।

প্রায় পুরো বিশ্ব এই সিদ্ধান্ত না নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে দিয়েছিল। শুধু ফিলিস্তিন, আরব ও ইসলামি বিশ্ব নয়, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও পোপ ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছিল।

ইসরাইলি ও ইহুদিদের কয়েকটি সংগঠন, যেমন ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র হারেৎস ও জার্মানিতে ইহুদিদের কেন্দ্রীয় পরিষদও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। কিন্তু কোনোকিছুতেই কাজ হয়নি। এত অনুরোধ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে থামাতে পারেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার এসব সতর্কতা ও উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প তার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।

এমনকি তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান সবার জন্য জেরুজালেম পবিত্র এক স্থান।

ফিলিস্তিনিদের জন্য অপমান
এটি শুধু প্রতীকীভাবে গুরুতর একটি সিদ্ধান্ত নয়, কারণ ফিলিস্তিনের বাইরে থাকা অনেক আরব ও মুসলিমরা এতে রাজনৈতিক পরাজয় ও অবমাননা হিসেবে দেখতে পারে।

জেরুজালেমের কথা আসলে সবসময় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আবেগ তুঙ্গে উঠে যায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে বহুবছর ধরে চলে আসা ঐকমত্য থেকে সরে এলো।

ওই ঐকমত্য অনুযায়ী, শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে জেরুজালেমের অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কারণ, ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। কিন্তু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে জুড়ে নেয়ার বিষয়টি বৈধ বলে রায় দিল।

ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ও আরব-ইসলামি বিশ্বকে তাদের দুর্বলতা ও ক্ষমতাহীনতার বিষয়টি মনে করিয়ে দিলেন। এখন বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ, সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নসহ আরো অনেক হুমকির বিষয় ঘটবে।

অযৌক্তিক ও খুবই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টই এর জন্য দায়ী থাকবেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তের কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। খেয়ালিপনা দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে খুবই বিপজ্জনকভাবে উসকে দিচ্ছেন।

বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সত্ত্বেও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন বলে মনে হয় না। যদি কখনো ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন রাষ্ট্র পায়, তাহলে তাদের নতুন করে একটি রাজধানী খুঁজতে হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে হয়ত আরো ছাড় দিতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক এখন এতই ঘনিষ্ঠ যে, ফিলিস্তিনি ও আরবরা তার সামনে ক্ষমতাহীন। বিশেষ করে বর্তমানে আরব নেতারা প্রকাশ্যে তাদের ‘ফিলিস্তিনি ভাই’দের প্রতি সংহতি দেখালেও তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার মতো পদক্ষেপ তাদের নেই এটা আসলেই হতাসা জনক ভুমিিকা তাদের ।

অপর দিকে শিয়য়াদেশ ইরান বলতেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, ফিলিস্তিন মুক্ত হবে এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার তৎপরতা থেকে তাদের অক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, চূড়ান্তভাবে মুসলমানরাই বিজয়ী হবে।

ইসলামের শত্রুরা বায়তুল মোকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করবে বলে দাবি করছে। এ তৎপরতা থেকে তাদের দুরবস্থা ও অক্ষমতাই ফুটে উঠেছে। মুসলিম বিশ্ব শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে শত্রুদের লক্ষ্য পূরণ হবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, বর্তমানে মহানবী (সা.)’র নির্দেশিত পথ ও মুসলিম উম্মাহ’র বিরুদ্ধে যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও বর্ণবাদী ইসরাইলের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর কিছু লম্পট ও চরিত্রহীনও রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের অনুসারীরাই হচ্ছে বর্তমান যুগের ফেরাউন। তিনি আরো বলেন, মার্কিন শাসক গোষ্ঠী এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে। তারা নতুন যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। দুঃখজনকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশের শাসক ও নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যারা যুদ্ধ চায় এবং যুদ্ধই যাদের নীতি, তাদেরকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা বলছি, জালিমদেরকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো সরকার যেসব কাজ করছে কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি আরো বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ঐক্যের পক্ষে এবং কোনো মুসলিম জাতির সঙ্গে ইরানের কোনো ধরণের বিরোধ নেই।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে না হটানো পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে: ইরান

ইহুদিবাদী ইসরাইল ধ্বংস এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনাকে হটিয়ে না দেয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ সংগ্রাম চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাযায়েরি। ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের পতন উপলক্ষে তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

আইএসের পতনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে অভিনন্দন জানান জেনারেল জাযায়েরি। তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সব রকম পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লেলিয়ে দিয়েছিল।

জেনারেল জাযায়েরি বলেন, আইএসকে দিয়ে নৃশংস উপায়ে মানুষ হত্যা করে সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমে আইএসকে নির্মুল করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ইসলামি বিপ্লবের বিজয় থেকে আজ পর্যন্ত ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বহু ষড়ন্ত্র করলেও তার কোনোটিই সফল হয়নি।

জেনারেল জাযায়েরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের বহিস্কারের ওপর এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যের জননির্বাচিত ও বৈধ সরকারগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চল থেকে বিদেশি সেনাদের হটিয়ে দেয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব যুদ্ধের পরিকল্পনাকারী হচ্ছে মার্কিন সরকার, কাজেই এ অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ওয়াশিংটনই দায়ী। তিনি বলেন, এসব অপরাধের জন্য মার্কিন শাসকদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।


What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি!

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles