দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃৃঙ্গ কেওক্রাডং

বান্দরবান বাস স্টেশন থেকে সামান্য হেটে চলে গেলাম রুমা বাস স্টেশন।সেখান থেকে বাসে করে চলে গেলাম রুমা বাজার(ভাড়া জন প্রতি ১১০/-)।যে কেউ ইচ্ছে হলে চাঁদের গাড়ী(ধারন ক্ষম


 

গন্তব্য ছিল এইবার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃৃঙ্গ কেওক্রাডং। উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩১৭২ ফুট।
দরকার কিছুটা সাহসিকতার আর পর্যাপ্ত ইস্টামিনা!আমরা ছিলাম ৬ জন। রাত ১১ঃ৪৫ বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম গামী তূর্না এক্সপ্রেস দিয়ে যাত্রা শুরু(ভাড়া জন প্রতি ৩৬৫/-)।পরদিন ভোর ৬ঃ০০ টার দিকে চট্টগ্রাম পৌছে সকালের নাস্তা সেরেই রউনা হলাম বান্দরবানের উদ্দেশ্যে।বাস ছিল ইউনিক,নামতে হল কেরানীহাট(ভাড়া জন প্রতি ১৪০/-)। সেখান থেকে ট্যাক্সি করে চলে গেলাম বান্দরবান বাস স্টেশন(ভাড়া জন প্রতি ৬০/-)।সরাসরি চট্টগ্রাম থেকেই বান্দরবান যাওয়া যাবে, সে ক্ষেত্রে বহদ্দার হাট থেকে বাসে উঠতে হবে।
বান্দরবান বাস স্টেশন থেকে সামান্য হেটে চলে গেলাম রুমা বাস স্টেশন।সেখান থেকে বাসে করে চলে গেলাম রুমা বাজার(ভাড়া জন প্রতি ১১০/-)।যে কেউ ইচ্ছে হলে চাঁদের গাড়ী(ধারন ক্ষমতা ১২-১৪জন) করেও রুমা বাজার যেতে পারবে,তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া আসবে সর্বমোট প্রায় ৩৫০০-৪০০০ টাকা।রুমা বাজারে গিয়েই সময় নষ্ট না করে প্রথম কাজ হল একজন ট্যুরিস্ট গাইড ভাড়া করা, কারন নিয়ম অনুযায়ী ট্যুরিস্ট গাইড ব্যতিত কোন ট্যুরিস্টকে আর্মি ক্যাম্প থেকে বগা লেক প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়না।আমরাও তাই করলাম, একজন ট্যুরিস্ট গাইড ভাড়া করলাম(গাইড চার্জ প্রতি দিন ৬০০/-)।কাগজ পত্র বিষয়ক কাজ ট্যুরিস্ট গাইড করে ফেলল।রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্প থেকে চেক ইন করে গাইড সহ একটি চাঁদের গাড়ি(ভাড়া সর্বমোট ২৫০০/-)করে রওনা হলাম বগা লেকের উদ্দেশ্যে।সাথে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে রাতে বারবিকিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরন কিনে নিয়ে গেলাম কারন বগা লেকে উপকরন গুলোর দাম স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুন রাখা হয়। দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দেয়ার পর পৌছলাম বগা লেক। সেখানে গাইড আগে থেকে থাকা খাওয়ার জন্য মোটেল ব্যবস্থা করে রেখেছে(প্রতি রাত জন প্রতি থাকা ১৫০/- এবং প্রতি বেলা খাবারের মূল্য জন প্রতি ১২০/-)। ক্যাম্প ফায়ার, বার-বি-কিউ, আড্ডা সব মিলিয়ে রাতের সময়টা ভালোভাবেই কেটে গেল।
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই সবার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গেল কারন অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে সবাইকে শুরু করতে হবে অপেক্ষমান সেই যাত্রার।কেওক্রাডং এর চূড়ায় উঠতে হলে পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে আরো ৯ কিলোমিটার। কিন্তু এই ৯ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠার জন্য আর্মি সদস্য ব্যতিত ট্যুরিস্টদের জন্য পায়ে হেটে উঠা ছাড়া আর কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই।ইতিমধ্যেই যাত্রা আরম্ভ হয়ে গেল,এই যেন ভিন্ন রকমের এক অনুভূতি, কিছুটা কষ্ট আর পরিশ্রম তো হবেই, কিন্তু না প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের কাছে সকল কষ্ট আর পরিশ্রম হার মানায়।প্রায় দেড় ঘন্টা বেয়ে উঠার পর আসলো চিংড়ী ঝর্ণা। ঝর্নার পানির স্পর্শে মুহূর্তেই কেটে গেল সকল প্রকারের ক্লান্তি।কিন্তু পথ তো এখনো অনেক বাকি।তো ঝর্ণাতে কিছুটা বিরতি নেওয়ার পর আবারো যাত্রা আরম্ভ করলাম। পাহাড় বেয়ে উঠতে উঠতে এইবার পৌছলাম যাত্রি ছাউনিতে। সেখানে গিয়ে দেখলাম আমাদের মত আরো অনেক গ্রুপ। যাত্রাপথে ছাউনিতে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমরাও কিছুক্ষন বিশ্রাম নিলাম, সেখান থেকে অন্যান্য পাহাড়ের চূড়া গুলো দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল, চারদিকে ছিল কোমল বাতাস এই যেন শরীরটা জুড়িয়ে যাওয়ার মত।কিন্তু বললাম না পথ তো এখনো অনেক বাকি। আবারো হাটা শুরু করলাম।হাটতে হাটতে আর পাহাড় বেয়ে উঠতে উঠতেই এইবার আসলো দার্জিলিং পাড়া,এখানে রয়েছে ১০-১২ টি পাহাড়ি পরিবারের বসবাস। এই যেন পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট একটি গ্রাম।আছে ২/১ টি খাবারের দোকান।এখান থেকে হালকা পানীয় খেয়ে নেওয়াটাই উত্তম।আমরাও হালকা পানীয় খেয়ে আবারো রওনা হলাম। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা বেয়ে উঠার পর আমরা পৌছে গেলাম কেওক্রাডং এর চূড়ায়।চূড়া থেকে মনে হবে এই না আকাশটা ঠিক মাথা ছুয়ে গেল, ভেসে যাচ্ছি মেঘের উপর। চারিদিক থেকে শুধু বাতাসের হিল্লোল! এইসব উপভোগ করতে করতেই কেটে গেল আরো ২-৩ ঘন্টা।
কিন্তু ফিরে তো যেতে হবেই! তো এইবার শুরু হয়ে গেল ফিরে যাওয়ার যাত্রা।
যে পথ ধরে আসলাম সেই পথেই আবার ফিরে যাওয়া। খরচের কথা বলতে গেলে আমাদের সবার জন প্রতি ৪০০০ টাকার মধ্যেই ট্যুর কমপ্লিট হয়ে গেসে।
তবে একটা এডভেঞ্চার টাইপের ট্যুর হিসেবে কেওক্রাডং এর দ্বিতীয় আমাদের দেশে খুব কম জায়গা রয়েছে! অবশ্যই আমরা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখবো।
যাত্রাপথে যাত্রী ছাউনিতে কলা অথবা অন্যান্য ফল খেতে পাওয়া যায়। আমরা অবশ্যই খাওয়ার পর এইসবের খোসা যথা স্থানে ফেলবো,এতে পরিবেশ রক্ষা তো হবেই সাথে ট্যুরিস্টরাও পাহাড়ে চলার পথে দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে।

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃৃঙ্গ কেওক্রাডং

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles