‘প্রেম’ স্বর্গ থেকে এসেই কারো কারো সহযাত্রী হয়ে যায়!


অ্যালেকজান্ডার আমীর : 

প্রায় একযুগ আগের কাহিনী। মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত চৌকস ও সুদর্শন অফিসার সার্জেন্ট “সীগাল”। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা “রেনে”কে এক বিশেষ দিনে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেন। কিন্তু বিধির বিড়ম্বনা নিয়তির নির্মম খেলায় বেচারা সিগাল পরাস্ত হয়। তা না হলে প্রপোজ করার পরের দিনই কেন তার ইরাক যুদ্ধে যাবার ডাক আসবে ?

ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করার সময় পেলেন না সিগাল – রেনে জুটি । তড়িঘড়ি করে স্যুটকেস গুছিয়ে প্রিয়তমাকে রেখেই ইরাকগামী বিমানে চড়ে বসতে বাধ্য হন যুদ্ধে যোগ দেবার উদ্দ্যশ্যে। অবাক হবার কিছু নেই। আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এইটাই সংবিধানের নিয়ম। আমি নিজেও একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমেরিকার নাগরিক হবার সময় শপথ নেয়ার অনুষ্ঠানে দেশের জন্য যে কোন সময় জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবো এই মর্মে শপথ পাঠ করেছিলাম। প্রতিটি আমেরিকানের কাছে তার বাবা-মা-ভাই-বোন -স্ত্রী-সন্তানের চেয়েও দেশের প্রতি ভালবাসাইই প্রথম শর্ত।

সীগাল ইরাক এসেই আমেরিকান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু দুর্ভাগ্য সিগালের পিছুই ছাড়ে না। একদিন সিগাল ইরাকিদের স্যুসাইড বম্ব ব্রাষ্টের কবলে পতিত হন। ভাগ্যগুনে সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও তার সম্পুর্ন মুখটাই আগুনে ঝলসে বিকৃত হয়ে যায়। আসলে সিগালের মুখ বলতে আর কিছুই থাকে না । এ অবস্থায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীগালকে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে আসতে হয়। মুখহীন সীগাল দেশে ফিরে গভীর মানসিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েন। আস্তে আস্তে সবকিছু এমনকি দুনিয়া থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এমন পরিস্থিতিতে একদিন সীগাল তার বান্ধবী রেনেকে অনুরোধ করে তাকে ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে জীবন শুরু করার জন্য। পরিচিত বন্ধুবান্ধব এমনকি সিগালের মানসিক চিকিৎসকও ব্যক্তিগতভাবে রেনেকে নতুন সঙ্গী খুঁজে নতুনভাবে জীবন শুরু করার পরামর্শ দেন।

বোধহীন রেনে সকলের ক্রমাগত অনুরোধে সিগালের কথা ভুলে যাবার চেষ্টা করেন। তাই কিছুদিন বিমর্ষ হয়ে একাকী সময় কাটান সকলের অনুরোধে। সিগালকে ভুলে যেতে চেষ্টা করতে গিয়ে কদিন পরই তার মনে হতে থাকে তার জীবন সিগাল ছাড়া ফাঁকা মাঠ। একদম নিরর্থক লাগে তামাম দুনিয়াদারি। সিগাল ছাড়া সব কিছু তার কাছে অর্থহীন মনে হতে থাকে। রেনের দেহ – মনও সীগাল ছাড়া অন্য কোন পুরুষের কাছে যেতে রাজী হয় না কিছুতেই । আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুনিয়ার কারো প্রতি ভালবাসা জন্মাতে ব্যর্থ হয় রেনে শেষতক।

রেনে মুখহীন কুৎসিত সীগালের অসহায়ত্বের কথা ভেবে আস্তে আস্তে নিজেই পাগল হতে শুরু করে। অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকেই যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে সকলের অনুরোধ উপেক্ষা করে জীবনের সকল ভালোবাসা নিয়ে রেনে ফিরে যায় সিগালের কাছেই। রেনে সব কিছু বাদ দিয়ে অসুস্থ সীগালের সারাক্ষণের সঙ্গী হয় নতুন করে। পৃথিবীর অন্যরকম পাগলপারা ভালবাসা দিয়ে সীগালের জীবনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে দিনে দিনে। শুধু তাই নয় , সীগালকে বিয়ে করাতেও রাজী করে ফেলে।

হাঁ ভালবাসাই তো। কি অদ্ভুত সুন্দর ভালোবাসাও যে আছে দুনিয়াতে ! কিছুতেও ক্লান্ত হয় না। সত্যিকারের ভালোবাসা মনে হয় কখনোও ক্লান্ত হয় না। কোনদিন হেরেও যায় না শত প্রতিকূলতায় …

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‘প্রেম’ স্বর্গ থেকে এসেই কারো কারো সহযাত্রী হয়ে যায়!

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles