ব্লেড রানার মুভি রিভিউ

ভিজুয়াল ইফেক্ট - ১৯৮২ এর ব্লেড রানারের মতোই এবং এর চাইতেও স্টানিং ভিজুয়াল এই মুভিতে। চোখ ধাধানো সব এফেক্ট। যতটা না মনের শান্তি এ সিনেমা দেখে, তারচেয়েও বেশি যেনো চোখে


বিগত বছরের শেষ মুভি হিসেবে দেখেছিলাম। কিন্তু এরকম ভালো লেগে যাবে বুঝতে পারিনি। যেখানে “ব্লেড রানার (১৯৮২) ই আমার তেমন ভালো লাগেনি সেখানে ২০৪৯ এ একটু কম আশাই ছিল। কিন্তু তারওপর আছেন প্রিয় পরিচালক “ডেনিস ভিলেন্যু”। তাই মিস করা ঠিক হবে না ভেবে দেখেই ফেললাম।

কাহিনী সংক্ষেপ : আগের মুভির ৩০ বছর পরের ঘটনা। যেখানে টাইরেল কোম্পানি বিদ্রোহী রেপ্লিক্যান্ট বানানোর কারণে বিলুপ্ত আর ঐ টাইরেল কোম্পানির অবশিষ্ট যা আছে তা নিয়ে “ওয়ালস” কোম্পানি নতুন বাধ্য মডেলের রেপ্লিক্ল্যান্ট তৈরি করে নিজেদের সর্বোচ্চ পজিশনে নিয়ে গেছে। এদিকে “K” (রায়ান গসলিং) ও ওদেরই একজন। সে আগের টাইরেলদের অবাধ্য রেপ্লিক্যান্টদের এখন হান্ট করে রিটায়ারমেন্টে পাঠায়। হঠাৎ একদিন এরকমই এককাজ করতে গিয়ে একটি বস্তুর সন্ধান পায় যেটার তদন্ত করতে গিয়ে সে আগের মুভির হিরো “ডেকার্ডের” সাথে যোগসূত্র খুজে পায়।

মুভির কোনদিক দিয়ে তারিফ শুরু করলে ভালো হয় বুঝতে পারছি না। কমপ্লিট মুভি বলতে যা বোঝায় ব্লেড রানার ২০৪৯ তাইই। চমৎকার গল্প – আগের কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এতো দারুন একটা নতুন প্লট। জাস্ট অ্যামেজিঙ। পরতে পরতে সাসপেন্স লুকিয়ে ছিল পুরো মুভি জুড়ে।

ভিজুয়াল ইফেক্ট – ১৯৮২ এর ব্লেড রানারের মতোই এবং এর চাইতেও স্টানিং ভিজুয়াল এই মুভিতে। চোখ ধাধানো সব এফেক্ট। যতটা না মনের শান্তি এ সিনেমা দেখে, তারচেয়েও বেশি যেনো চোখের শান্তি পেয়েছি এই সিনেমা দেখে। যারা সিনেপ্লেক্স/থ্রিডিতে এই মুভি দেখেছে তারা সত্যিই লাকি।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক – I just fooking love this cyberpunk music. চিনচিনে, রহস্যময়ী মিউজিক পুরো মুভিটার আবহই পাল্টে দিয়েছে। নিশ্চিতভাবে মিউজিকের প্রেমে পড়ে যাবেন।

স্ক্রিপ্লে, ডিরেকশন, স্টোরিটেলিং, অভিনয়, কালার কারেকশন সবকিছুই টপ নচ। পরিচালক ডেনিস ভিলেন্যুর আগের কাজগুলো [ ইন্সেন্ডিস, অ্যারাইভাল, প্রিজনার্স, সিকারিও] সম্পর্কে অবগত থাকলে উনাকে নতুন করে পরিচয় দেয়ার কিছুই নেই। এই সিনেমায়ও দারুণ কাজ করেছেন তিনি।

প্রধান চরিত্রে রায়ান গসলিংকে দারুন লেগেছে। কিউট বয় ফেইসটা মুভি দেখার সময় মনেই পড়েনি। বরঞ্চ একশনের সময় কাঠিন্যতা দেখানো চেহারাটাই ভালো লেগেছে অনেক।

হ্যারিসন ফোর্ডকে প্রথমবার দেখানোর সময় ”ব্লেড রানার” ফ্যানগন পৈশাচিক অানন্দবোধ করবেন। যতক্ষণ ছিলেন ভালো লেগেছে। জ্যারেট লেটো ভালো ছিলেন ভিলেন হিসেবে তবে বেশিক্ষণের জন্য ছিলেন না পর্দায়। ডাচ অভিনেত্রী সিলভিয়া হুক্সকেও দারুন লেগেছে। তবে অ্যানা ডি অার্মস কিউটনেসের দিক দিয়ে সবাইরে পিছে ফেলছেন। আর ছোট একটি চরিত্রে রবিন রাইটও আছেন। মোট কথা, কাস্টগুলোর পারফেক্ট কম্বিনেশন আর এক্সিকিউশন হয়েছে।

মুভির রানটাইমটা দেখে প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলাম। আবার অনেকে বলছেন বোরিং। কিন্তু দেখার পরই বুঝতে পেরেছি এরচেয়ে দৈর্ঘ্য কম হলে মুভির অাকর্ষণই কমে যেতো। বরঞ্চ, শেষ করার পর আরো কদ্দুর দেখার মন চাইতেছিলো এর অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির কারণে।

ধুন্দুমার একশনের অাশা করে ‘৮২ এর ব্লেড রানার দেখতে বসেছিলাম তাই মনপূত হয়নি দেখে। এবার সাইফাই-মিস্ট্রি, ড্রামা হিসেবে ব্লেড রানার ২০৪৯ দেখে শতভাগ সন্তুষ্টি প্রাপ্তি হয়েছে। যারা প্রথম মুভি দেখেননি তারা অবশ্যই এটি দেখার আগে প্রথম মুভিটি দেখে নিবেন।

এখন পর্যন্ত আমার কাছে ২০১৭ এর সেরা মুভি “ব্লেড রানার ২০৪৯”.. ক্ল্যাসিক সাইফাই হওয়ারও যোগ্যতা রাখে এই মুভি। অস্কার জেতার জোর দাবি ব্যক্ত করে রিভ্যু শেষ করলাম।

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্লেড রানার মুভি রিভিউ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles