শশুর বাড়ি সমাচার

বিয়ের দুইবছর পরও রান্না করার সৌভাগ্য আমার হয়ে ওঠেনি। আমার মতো এমন কেউ আছেন কিনা জানা নেই। ভাইবেন না আমি হাওয়া খেয়ে বাঁচি। আপনাদের মতো খাবারই খাই তবে রান্নাটা সম্পাদন


বিয়ের দুইবছর পরও রান্না করার সৌভাগ্য আমার হয়ে ওঠেনি। আমার মতো এমন কেউ আছেন কিনা জানা নেই। ভাইবেন না আমি হাওয়া খেয়ে বাঁচি। আপনাদের মতো খাবারই খাই তবে রান্নাটা সম্পাদন করেন আমার শাশুড়িমা। মায়ের চুলটানা গালটানা খেয়ে বাবার বাড়ি থাকে যা শিখে আসছি তাও এখন ভুলে গেছি। বিয়ের দুইদিন পর রান্না ঘরে আলু কাটতে নিলাম আর শাশুড়ি মা যখন বললো , বউমা আলু আমি কাটবো তোমার আাঙ্গুলে আলুর কষ লেগে কালো হয়ে যাবে!! মনে হইলো আকাশ থেকে পড়লাম! মনডা চাইছিল আমার আম্মাজান রে ধইরা আইনা দেখাই দেখেন আপনার চাইতে আমার শাশুড়িমা কত্ত ভালো। আম্মাজানের কথা মনে পড়তেই চোখ ভিজে উঠলো মা জানি একা একা কতো কষ্টইনা করছে। আবার রাগ ও হলো করোগ গে কষ্ট আমারে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেয়ার কি দরকার ছিল। এখন বুঝুক মেয়ে হারানোর যন্তনা! বিয়ের পরেরদিন থেকেই দেখে আসছি রান্না ঘরটা শাশুড়িমা দখল করে আছেন। বহু চেষ্টা করেও একদিনের জন্য রাধুনী হইতে পারিনী। ওনার কখনো ইচ্ছে হয়নি আমার হাতের রান্না খাওয়ার। তিনি হয়তো মনে মনে আমারে কেকা আপার ছোড বইন মনে করেন সেই জন্যই!! ওনার যে রান্না করার বয়স তা কিন্তু না। ওনার সামনে ৬৪ দাঁড়িয়ে আছে! আর কয়দিন পরেই ৬৩গত হবে! শুধু যে রান্না তা কিন্তু না আরো আরো যা আছে সেগুলাও। খারাপ লাগে নিজের কাছেই, বাট উনি নাছোড় বান্দা। কাজ করলে নাকি মন ভালো থাকে। আমি যে মানুষটা মায়ের বকুনি শুনে, চোখের পানি নাকের পানি একসাথ করে রান্না ঘরে যাইতাম, আগুনের তাপ যাতে মুখে না লাগে, চোখ মুখ এমন ভাবে ওড়না দিয়ে পেচাইতাম, মনে হইতো যেন হাড়ির ভিতর কোন বেগানা পুরুষ বসে আছে,তাকেই আজ দুইবছর শাশুড়ি মা আগুনের কাছে যাইতে দেয়না। হাজার বার শুকরিয়া জানাই রাহমানুর রাহীম কে। 

আমার বরের যখন আমার হাতের রান্না খাওয়ার শখ হয় ডিম ভেজে এনে দেই, মুখটা এমন ভাব করেন মনে হয় যেন পৃথীবির শ্রেষ্ঠ খাবার টা তিনি খাচ্ছেন! বিয়ের দিন বরকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে প্রথমটা ছিলো আমার জন্য তার মাকে কখনো কষ্ট দিতে পারবেনা। আর দিত্বীয়টা হলো প্রতিদিন তাহায্যুতের সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কারন আমি জানি একজন শাশুড়ি বউয়ের কাছ থেকে একশো কথা শুনলেও এতোটা কষ্ট পান না, যতটা কষ্ট পান নিজের ছেলে একবার রাগান্বীত হয়ে তাকালে। স্বয়ং আল্লাহই বলেছেন,তোমরা তোমাদেরকে গর্ভেধারন কারী মায়ের ব্যাপারে উহ্ শব্দটিও করোনা।। শশুর বাড়িতে কথা শুনতে হয়না এমন নজির নাই,অন্তত বাংলাদেশে। শাশুড়িমা যখন আমাকে অবান্ছিত কিছু কথা আমার বরের সামনে শুনাতে লাগলেন, সে যখন মায়ের সাথে বুঝাপড়া করতে লাগলো,আর আমি ব্যাগ গোছানো শুরু করলাম। আমি কখনোই এটা চাইনি সে তার মায়ের মুখের উপর কথা বলুক। আমার মা সব সময় এটা বলতেন তুমি অন্যকে ক্ষমা করলে আল্লাহই তোমাকে ক্ষমা করবেন। শাশুড়ি মায়ের বকা আমি মনে কম রাখি, কারন তিনি তার ছেলেকে সত্যিকারের একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। যে মানুষটা ৩/৪ ঘন্টা জ্যেম এ বসে থেকেও বাসায় এসে দেখে বালতি ভরা কাপড় হয়তো নিজের না হয় বাচ্চার অসুস্হতার কারনে ধুইতে পারিনি। তিনি এগুলা ধুয়ে দেন নিঃশব্দে। কোমর ব্যেথার জন্য ঘর মুছতে পারিনা সময় পেলে সে ঘর মুছে দেয়। প্রতিদিন ফোন করে বলবে যেটা পারবানা সেটা রেখে দিও, আমি এসে করবো!! মন থেকে যে কতো দোয়া আসে এ কথাটা শুনলে,একমাএ আল্লাহই জানেন।বউয়ের কাজে সহযোগিতা করলে লজ্জার কিছু নেই। বরং সংসারে সুখি হওয়ার জন্য বড় হাতিয়ার এটা।দোষ না খুঁজে যতটুকু সম্ভব সংসারে সহযোগীতা করা। একটা হাদিস পড়ছিলাম এমন (রেফারেন্স মনে আসছেনা) আয়েশা(রাঃ) থেকে বর্নীত, রাসূল(সাঃ) বাহিরে থেকে এসে যখন দেখলেন খাবার তৈরী হয়নি, তখন তিনি হয় আয়েশা(রাঃ)কে গম পিষে দিতেন না হয় রুটি বেলে দিতেন। কিন্তু রাগান্বিত হতেন না। বিশ্ব নবী হয়েও তিনি যখন ঘরের কাজে সহযোগীতা করতে পারেন, তখন আমাদের ও উচিত সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। যখনি ভালো কোন কাজ করতাম আল্লাহ র কাছে এটাই চাইতাম একজন সৎমানুষ কে যেন জীবন সঙ্গী হিসেবে পাই। শুন্য থেকে উঠে আসা একজন মানুষকে যখন আস্তে আস্তে শিখাতে লাগলাম দাঁড়ি রাখার ফজিলাত, টাখনুর উপর কাপড় পরার কথা, দৈনন্দিন জীবনে চলার জন্য ইসলামের প্রয়োজনীয়তা, তাকে শিখিয়ে তোলার জন্য সাহায্য কারী হিসেবে আমি রাহমানুর রাহীম কে পেয়েছি। আর সবাই ছিল বিরুদ্ধে। ছেলে কেন এত তাড়াতাড়ি দাঁড়ি রাখবে।? তখন আমার বর বললো যে যতো কিছুই বলুক না কেন, মন খারাপ করো না। আমি ঠিক আছিতো সব ঠিক। আলহাম’দুলিল্লাহ্, এর থেকে বড় নেয়ামত আর কি হতে পারে। এখন সে আমার ভুল গুলাও ধরায়ে দিতে পারে। তুমি এটা করছো কেন, ইসলাম তো এটাকে পছন্দ করেনা। তখন ভাবি আল্লাহ মানুষ কে সঠিক পথ দেখাতে কতোক্ষন। যদি বান্দা মন থেকে চায়। আল্লাহ সবাইকে ইসলামের উপর সঠিক জ্ঞান দান করুন। দুনিয়ার ফেতনা থেকে হেফাজত করুন।

লেখা____সবুজ পাতা।


Like it? Share with your friends!

0
3 shares

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শশুর বাড়ি সমাচার

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles