শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ


কামরুল নাজিম : বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সেই দলটি আজ নিজ কর্মের কারণে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সত্যিকার অর্থে বললে, ছাত্রলীগের মধ্যে আজ অশান্তির ব্যাপারটি দিনের আলোর মতই স্পষ্ট। ছাত্রলীগ যদি ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ না হতো তাহলে সেই সুফলটি নিঃসন্দেহে জাতির জন্য মঙ্গলজনক হতো। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কথা বলার আগে কেউ অন্তত একবার হলেও ভাবতো।

হাতি যখন গর্তে পড়ে, তখন মশাও এসে লাথি মারে। ছাত্রলীগ যদি নিজেদের মধ্যে অন্তঃকলহে জড়িয়ে না পড়তো তাহলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতেও ছাত্রলীগ হেটারদের কলিজা কাঁপতো। কেউ যখন ছাত্রলীগকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তখন অবাক লাগে বৈকি। এই সেই ছাত্রলীগ যে সংগঠনটি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রাম পর্যন্ত সকল আন্দোলনে ফ্রন্ট লাইনে ছিল। এমনকি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রলীগ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। শহীদ নূর হোসেন তো ছাত্রলীগের কর্মীই ছিল। হায় ছাত্রলীগ!

তবুও ছাত্রলীগের একটি বিষয় খুব ভালো লাগে। ছাত্রলীগ মারে, ছাত্রলীগ মরে, আবার সেই ছাত্রলীগই সংকটের সময় অপ্রতিরোধ্য বাঁধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

ছাত্রলীগের মাঝে একতার অভাবটি আজ খুব বেশী স্পষ্ট। গৌরব আর ঐতিহ্যের ৬৯ বছরে এসে যেখানে ছাত্রলীগ হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জয়গান গাওয়ার কথা, সেখানে ছাত্রলীগ যখন মারামারি করে অন্যরা তখন হাততালি দেয়। আদর্শ যেখানে অনুপস্থিত, নৈতিকতা সেখানে বিবর্জিত। ছাত্রলীগের প্রত্যেক গর্বিত সদস্যের উচিত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একবারের জন্য হলেও পড়া।

ছাত্রলীগের ভিতর একটা ঝাড়া দেয়া দরকার। ছাত্রলীগের ভিতর প্রচুর পরিমাণে আগাছা জন্মেছে। আগাছা কখনোই কোন কাজে আসেনা, কিন্তু ফসলটাকে নষ্ট করে ফেলে। ছাত্রলীগ মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন, সন্ত্রাসীদের নয়। ছাত্রলীগের প্রত্যেক সদস্যের জন্য ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাধ্যতামূলক করে দেয়া হোক। ছাত্রলীগ অটোমেটিক্যালি চেঞ্জ হয়ে যাবে। ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য ফিরে পাক, ফিরে যাক তার নিজস্ব চেতনায়। সেটা ছাত্রলীগের জন্য ভালো, ভালো জাতির জন্য।

ছাত্রলীগের ঐতিহ্য আছে, আদর্শ আছে, নিজস্ব চেতনা আছে, গর্ব করার মত হাজারো ঘটনা আছে। ছাত্রলীগ গর্বিত ইতিহাসের অংশীদার। ছাত্রলীগ হারিয়ে যেতে পারেনা। ছাত্রলীগের আদর্শ বিলীন হতে পারেনা। ছাত্রলীগের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে লজ্জাকর ব্যাপার। আদর্শ, নীতি, চেতনায় ছাত্রলীগের পুনর্জন্ম হওয়াটা এখন সময়ের দাবী।

ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য ফিরে পাক, জ্বলে উঠুক চেতনার স্ব মহিমায়। ছাত্রলীগ ফিরিয়ে আনুক তার গর্বিত ইতিহাস। ছাত্রলীগ আবারো হয়ে উঠুক জাতির ত্রাণকর্তা। সেই আশাটুকু এখনো বাঁচিয়ে রাখি। ছাত্রলীগ ইতিহাসের একটা বিশাল অংশ জুড়ে ছিল, ছাত্রলীগ ইতিহাসের অংশ হয়েই থাকুক। ছাত্রলীগের জন্য অসংখ্য অসংখ্য শুভেচ্ছা। শুভ হোক ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ পথচলা।

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles