সত্য ঘটনা অবলম্বনে

-কি হয়েছে বিয়ের দিনই মন খারাপ করে আছিস কেন?তোর পছন্দের মেয়েকেই তো আমার বউমা করে আনতেছি। আমি মা'কে বললাম,


লিখেছেন Nilofa Nilo

তিনি আমার  সৎ_মা কিন্তু বিয়ের একদিন আগেও জানতাম না,যিনি আমাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালবাসেন তিনি আমার গর্ভধারিণী মা নন।যে ভাই বোনেরা বড় ভাই করে করে শ্রদ্ধা,ভালবাসায় পাগল করে তুলে তারা আমার মায়ের পেটের ভাই বোন নয়। সৎ_ভাই_বোন।

আমার বিয়ের দিন আমার পাড়ার একজন চাচা আমাকে বললেন,
–তোমার মায়ের কবরটা জিয়ারত করে এসো। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করেছিলাম,মায়ের কবর জিয়ারত মানে কি,আমার মা’তো ঘরেই আছে।বরং আমি একটু চাচার উপর রেগে গিয়েছিলাম।কেন আমার জীবিত মাকে মৃত বললেন।
উনার সাথে রাগারাগি করে বাড়িতে চলে আসলাম,খুব মন খারাপ হয়ে গেল।মা এসে জিজ্ঞাস করল,
–কি হয়েছে বিয়ের দিনই মন খারাপ করে আছিস কেন?তোর পছন্দের মেয়েকেই তো আমার বউমা করে আনতেছি।
আমি মা’কে বললাম,
–তুমিইতো আমার মা।বড় চাচা এগুলো কি বলেন।আমি নাকি মায়ের কবর জিয়ারত করে আসতাম।আমার খুব মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।উনার সাথে রাগারাগি করে এসেছি।
মা কয়েক মিনিট চুপ হয়ে থাকলেন,খুব কান্না করলেন,বললেন,
–চাচা ঠিকই বলেছেন, বলে সোফায় হেলান দিয়ে বসলেন,
তোর বাবা যখন আমাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিল,তখন তোর বয়স মাত্র দশ মাস।একমাস আগেই তোর মা মারা যায়।আমি বিয়ে করেই কষ্ট ছাড়া মা হয়ে গেলাম।তোর বাবা বিয়ের রাতে একটা কথাই বলেছিল,
–আমাকে ভালবাসতে হবেনা।শুধু আমার ছেলেটাকে মায়ের স্নেহ দিও।তোমার প্রতি আমার ভালেবাসায়, যত্নে কমতি হলে আমাকে অভিযোগ করতে পারবে কিন্তু আমি কোন অভিযোগ করবনা তবে আমার ছেলেটা যেন অভিযোগ না করে।মনে রেখো আজ ওর মা মারা গেছে বলে সৎ মায়ের হাতে পড়েছে,কাল যদি তোমার অনাগত সন্তানদের যত্নের জন্য তুমি না থাক তাহলে তারাও সৎমায়ের হাতে পড়বে।মানুষের হায়াৎ মওতের বিশ্বাস নেই।তাদের পালনের জন্য যদি আমাকে তৃতীয় বিয়ে করতে হয়?কারণ আমার বাচ্চাদের পালনের জন্য আমার কোন আপন জন নেই।বিয়েই আমার একমাত্র ভরসা।
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলাম।বুঝার চেষ্টা করছিলাম উনি কি বুঝাতে চেয়েছেন।আমি গরীব পরিবারের মেয়ে বলে, আরো দুইটা ছোট অবিবাহিত বোন আছে। এত্তবড় সংসারের বুঝা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, এক সন্তানের বাবার কাছে বিয়ে দেওয়া হয়।আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না যে,এমন একজনকে বিয়ে করব যার হ্রদয়ে অলরেডি অন্য মহিলার স্মৃতি। এবং তাদের ভালবাসার নিশানা তুই।তোকেও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল।
সেদিন কেন জানি মন থেকে বেরিয়ে গেল,হয়ত আমি এভাবে বলতে চাইনি,
–আপনি নিশ্চিত থাকুন,ও আমার পরিচয়ে বড় হবে।
ও কখনো জানতেও পারবেনা যে,আমি তার গর্ভধারিণী নই। সে আমাকেই মা হিসেবে জানবে।
তারপর ধীরেধীরে তুই বড় হচ্ছিস,তোর হাসি,দুষ্টুমি, তোর প্রথম হাটা, প্রথম মা ডাকা আমাকে খুশিতে পাগল করে দিচ্ছিল।যতই দিন যাচ্ছে তুই হয়ে উঠলি আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। তোর মা ডাকেই যেন আমি বেহেশতের সুখ পাচ্ছিলাম।এত মিষ্টি করে হাসতি, আমি খুশিতে পাগল হয়ে যেতাম।তুই আমাকেই মা হিসেবে চিনিস,আমার মাঝেই তোর সুখ আর তোর মাঝেই আমার পূর্ণতা।
আমি আবার ছেলের মা হলাম,তোর ছোট ভাই দুনিয়াতে আসল।তোর ছোট ভাইয়ের বয়স যখন তিন,আর তোর বয়স সাত,একদিন আমি তোকে কোন কারণে মারি, পাড়ার এক মহিলা বলে নিজের মা হলে মরতে পারতোনা, সৎমা বলেই মেরেছে।সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।আমি তোকে কখনো পরের ছেলে ভাবিনি। তাই হয়তো কষ্টটা একটু বেশী পেয়েছিলাম।আমি তোর বাবার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলাম,আমরা শহরে চলে যাব।যেন তোকে কেউ না বলে,তোর নিজের মা নেই।
সব আত্মীয়দের বলে দিলাম কেউ যেন না বলে, আমি তোর সৎ মা।তারপর তোর আরো একটা বোন এল।আমি সবসময় চেষ্টা করেছি,যেন তোর ভাই,বোন তোকে বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করে,ভালবাসে।
যেদিন তোর অনার্সের রেজাল্ট দিল,তুই খুব খুশী হয়ে বললি,৩.৭৫ পেয়েছিস।আমি বুঝিনা এই রেজাল্টের মানি কি কিন্তু তোর খুশীতে বুঝেছিলাম তোই অনেক বড় কিছু অর্জন করেছিস। অনেক বেশী খুশি হয়েছিলাম।
জানিস বাবা, সেদিন খুবই স্বার্থপর হয়ে গিয়েছিলাম,একদিকে চাচ্ছিলাম তোকে বলি,যা তোর মায়ের কবর জিয়ারত করে আয়।অন্যদিকে মন বলতেছে আমিই তোর মা।বোকের উপর পাথর রেখে তোকে বলার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু তোর বাবা নিষেধ করেছিল।
আমি জানিনা খুশি হয়েছিলাম নাকি প্রচণ্ড অপরাধবোদে কষ্ট পাচ্ছিলাম।সবকিছু ছাড়িয়ে এক অন্যরকম তৃপ্তি পাচ্ছিলাম।
তোর বিয়ে ঠিক হল।আমার বড় ছেলের বিয়ে।আমিতো খুশিতে আর কিছুই চোখে দেখিনা।
আর স্বার্থপর হতে পারিনি।নিজে বলার সাহস পাচ্ছিলাম না,তোর চাচাকেই বললাম তুই যেন আপার কবরটা জিয়ারত করে বিয়ে করতে যাস।
এসব বলতে বলতে মা অঝর ধারায় কান্না করতে লাগল।বারবার বলছে,
–আমাকে ক্ষমা করে দিস বাবা।আমি তোর অপরাধী।আমি যে তোর সৎমা।আপা বড় ভাগ্যবতী, তোর মত সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছেন।
আমি প্রচণ্ড কান্নায় মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
–মাগো,ওমা।আমি তোমারই বড় ছেলে।তুমিই মা।তুমি আমাকে এত বেশি ভালবেসেছ,আমাকে কিছু বুঝারই সুযোগ দাওনি।সেই মা আমাকে গর্ভে ধারণ করেছেন।তুমি যোগ্য করে গড়ে তুলেছ।আজ শুধু তোমার কারণেই আমি বাবার যোগ্য উত্তরাধিকারী হতে পেরেছি।আল্লাহর কাছে অপরিসীম শুকরিয়া তিনি তোমাকেই আমার মা হিসেবে দিয়েছেন।
“আমার কাছে মায়ের ভালবাসার চেয়ে মহান কিছুই নেই।সেই মহান ভালবাসা আমি তোমার কাছেই দেখেছি, শিখেছি।”
তুমি আমার কাছে মহান মা’।ভালবাসি মা।যদি সৎমায়ের ঘৃণা এমন হয়,তবে আমি সারাজীবন এই ঘৃণাই পেতে চাই।”
মা ছেলের এক অপূর্ব মিলন মেলা।
বি:দ্র: আমার কাহিনী নয়।

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
1
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles