স্পয়লার এলার্ট – হালদা রিভিউ


Morsel Anowar Chy Akash :

হালদা

বস্তুত একটি নদী। শুধুই নদী নয় এটি, এটি একই সাথে জীবন জীবিকার মাধ্যমও বটে। বাংলাদেশের অন্য আরও অনেক গর্বের মত হালদাও আমাদের একটি গর্ব। কারন মৎস্য প্রজননের জন্য দক্ষিণ এশিয়াতে এমন নদী আর নেই।

ধন্যবাদ তৌকির আহমেদ কে। আমাদের অন্তরে আবার ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য হালদার হাহাকার আর্তনাদ একইসাথে হালদার নির্ভরশীলতার কথা।

এবার গল্পে আসি।

প্রথম প্রশ্ন আমাদের মনে আসতেই পারে কেমন ছবি হালদা।

হালদা প্রেমের ছবি। তবে প্রেম নদী এ দুটোকেই উপজীব্য করেই ছবির গল্প এগিয়েছে।

আসুন ছবির পজেটিভ দিক আর কিছু সমালোচনা নিয়ে বলি।

#পজেটিভ দিক

* উপচে পড়া দর্শক। বেশিরভাগই শিক্ষিত ছেলে মেয়ে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে আসা মানুষ।

* নদী এবং প্রেমকে এক সুতোই বাঁধার চেষ্টা এবং বেশ সফল।

* সেরা অভিনয় তিশা, জাহিদ হাসান মোশাররফ করিম এবং ফজলুর রহমান বাবু।

* ফোক বা গ্রামীণ পটভূমিকে কেন্দ্র করে ছবি করলে আগে ঐ এলাকা বা অঞ্চলের কৃষ্টি কালচার ভালভাবে জানতে হয় কারন ছবির ওসবেরও কিছু প্রভাব থাকে। এ দিক তৌকির আহমেদ দশে দশ। আগে ব্যাঙের বিয়ের হতো শুনেছি অনেক অনেক বছর পর ছবিতে টা দেখলাম। অভিভূত। একি সাথে নদী এলাকার মানুষের বিয়ে হলে নৌকা করেই বড় যাত্রী যাবার দৃশ্য। দারুন

* দৃশ্যায়ন এর কথা বলতে গেলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়ার মতই কিছু দৃশ্যায়ন আছে। ড্রোন ক্যামেরায় উপর থেকে তিশার বাবার বাড়িতে ফিরে আসার সময় নৌকার দৃশ্য আমার আজীবন মনে থাকবে। বৃষ্টির দৃশ্য এতো সুন্দরভাবে এ দেশের আর কোন মুভিতে এসছে আমার জানা নেই।

* গান এবং এর চিত্রায়ন এক কথায় খুবই দারুন। প্রতিটি গান মন ছুয়ে যাওয়ার মত। শুরুর দিকে ভান্ডারির কাওয়ালী খুবই ভাল লেগেছে।

* কারিওগ্রাফি দৃশ্যের সাথে সংগতিপুর্ন ভাবেই করা হয়েছে। এবং খুব চোখে লাগে এমন কোন জামা কাপড় বা মেক আপ চোখে পরেনি মোটেই।

* একটা মুভির সংলাপ খুব বড় একটা জায়গা নিয়ে নেয় একটা মুভিকে ভাললাগার জন্য। এ দিক থেকে বেশ সুন্দর ছিল সংলাপ। কিছু জায়গা সংলাপ আর এটার এক্সপ্রেশনের কারনে কেন জানি চোখে পানি চলে আসছিল। তিশা কিছু বুক কাপিয়ে দেওয়ার মত আবেদন আমাকে কাঁদিয়েছে।

* পিয়ার কিয়া তো দারনা কিয়া এই গানটাতে রাগে আকবর চরিত্রে অভিনয় করা পৃথবিরাজ সাহেবের একটা এক্সপ্রেশন ছিল, গানের মাঝে খুব রাগে সে সাপের মত ফোসতে ছিলেন গাল ফুলে যাচ্ছিল। ঠিক একই ধরনের একটা এক্সপ্রেশন দেখলাম জাহিদ হাসানের। যখন মোশাররফ করিমের বিচার হচ্ছিল তখন। অদ্ভুদ এক্সপ্রেশন তার। অভিনয়ে তিশা সবচে এগিয়ে। বিশেষ করে কান্নার দৃশ্যে সহজ সাবলিল দৃশ্যায়ন গুলো দেখেই মনে হয়নি এই মেয়ে ছবিতে অভিনয় করছে। নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছিলাম তখন আমি যেন আবার কেঁদে না ফেলে। ফজলুল রহমান বাবু ও বেশ দুর্দান্ত করেছেন যতক্ষন ছিলেন। মোশাররফ করিম অভিনয়ে প্রেমের নিবেদন খুব সুন্দর ভাবেই করতে পেরেছেন। তার আবেদন গুলো বেশ দেখার মত ছিল। কোন ধরণের ভাঁড়ামো ছিলনা।

* গন সচেতনতা। এই ব্যাপার টা বেশ ভালভাবেই আনার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। হালদার মা মাছ এক ধরণের আবেগ সেখান কার মানুষদের কাছে খুব স্পষ্টভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন এই ব্যাপার গুলো।

* সব মিলিয়ে একটা দিক নির্দেশনা একটা মেসেজ দেয়া হয়েছে পুরো মুভিতে।

#সমালোচনা করার মত কিছু দিক আছে এই মুভিতে।

১ . শুরুর বেশ কিছু সময় এক দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যের রূপান্তর এত দ্রুত হচ্ছিলো মনে হচ্ছিল ছবি খুব দ্রুত শেষ হতে চলেছে। শুরু থেকে এই ধারা বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। যেমন আচমকা নৌকাবাইচ দেখা গেল আবার হুট করে নেই। আবার শুরুর দিকে দেখলাম গুলি করল কিন্তু হঠাত করেই ওই দৃশ্য শেষ না হয়ে অন্য একটা দৃশ্যের উত্তরণ হল।

২ . তিশার বিয়ে হল কিন্তু হঠাত ২/৩ মিনিট পর তার শাশুড়ির সংলাপে জানতে পারলাম ছয় মাস পার হয়েগেছে। বদি নায়র নিতে আসে তিন দিনের জন্য কিন্তু প্রশ্ন হলো তিশা কি তাহলে গত ছয় মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় পর্যন্ত বাবার বাড়ি যায়নি বা বাবা মা কেউ তাকে দেখতে আসেনি?

৩ . ভাষাটা আমাদের চট্টগ্রামের ভাষা হয়নি আবার অন্য অঞ্চলের ভাষা ও হয়নি। তবে এই কঠিন ভাষা বুঝার জন্য আমাদের দেশের হলের জন্য বাংলা সাবটাইটেল রাখা দরকার ছিল। স্ক্রিনের সমস্যার কারনে সাবটাইটেল  নিচের দিকে এক লাইন দেখা যায় বাকিটা দেখাই যায় না।

৪ . নরেন্দ্রকে সাপে কামড় দেয় কিন্তু যে এক্সপ্রেশন সে দেয় তখন বুঝাই যায়নি তাকে সাপে কামড়িয়েছে।

৫ . জাহিদ হাসানের প্রথম বউকে তাড়িয়ে দেওয়ার মত এমন বড় কারন কি ছিল আদৌ যেখানে আমি ভেবেছিলাম তিশাকে মেরেই ফেলবে জাহিদ হাসান যখন তাকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে।

৬ . বদিকে কিভাবে গোন্ডারা ধরল মারল বা কিভাবে কি হল বুঝতেই পারলাম না শুধু আবিষ্কার করলাম তার চারপাশে আগুন জ্বলছে সে শেষ হচ্ছে।

৭ . ছবির দ্বিতীয় গান টা যখন হচ্ছিল আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছিল গানটা এই পটভুমির ছবির সাথে যাচ্ছিলনা। এটা শহরের পটভুমিতে করা কোন ছবি বা নাটকের জন্য ভাল হত।

 

প্রেম ছবির প্রধান উপজীব্য বিষয় নাকি সামাজিক সচেতনতা এই প্রশ্ন আসলে, ছবির একটা বিষয় বেশ ভাল লাগে আমার কাছে। হালদা সম্পর্কে আপনাকে জানানো আবার গল্পের অগ্রতার জন্য দুজন মানুষের প্রেমকে সমান ভাবেই এগিয়ে নেয়া। অভুতপুর্ন মেলবন্ধন মেনে চলেছে ছবির শেষ পর্যন্ত।

যে ছবি দেখে আপনি আবার ভাবনার জগতকে আর একবার মেলে ধরতে পারবেন জীবনবোধের তাগিদে সে ছবি না দেখে থাকবেন কিভাবে।

সমালোচনাগুলো নেহাত আমার নিজের অনুভুতি ছাড়া আর কিছুই না। কারন সবকিছু বিচার করলে এই ছবির আপনার আমার সবার জন্যই বেষ্ট অপশন।

আসুন নিজের দেশের ছবিকে সবাই হাতে ধরে আবার এগিয়ে নিতে হলে হাজির হই পরিবার পরিজন নিয়ে।

রেটিং ৮/১০

 

 

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্পয়লার এলার্ট – হালদা রিভিউ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles