Dunkirk নোলানের মুভি রিভিউ

স্টোরি-লাইন সম্পর্কে বলার কিছুই নেই। কারণ একদম ঐতিহাসিক সত্য ঘটনার উপর নির্মিত হয়েছে ডানকার্ক। ডানকার্ক এমনিতেই নিজের রঙে রঙিন। শুধু দরকার ছিলো সেই সময়টাকে পারফেক্টভ


Ozzy Shuvo :

তিন বছর অপেক্ষার পর ডানকার্ককে নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন নোলান। স্বাভাবিকভাবে সবারই এক্সপেক্টেশন অনেক ছিলো। নোলান আগেই বলে দিয়েছিলেন যে, ডানকার্ক কোনো কমপ্লিট ওয়ার মুভি না। এটা একধরনের সার্ভাইবাল মুভি, সেই সময়টাকে নিজের মধ্যে অনুভব করার মতোন মুভি। যারা সামনে মুভিটা দেখবেন তাদের জন্য বলি, ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ কিংবা হালের ‘হ্যাকস রিজ’ এর মতো মুভি দেখার এক্সপেক্টেশন নিয়ে ‘ডানকার্ক’ দেখতে বসবেন না। ‘ডানকার্ক’ সকল প্রকার ওয়ার মুভি থেকেই আলাদা।

 

স্টোরি-লাইন সম্পর্কে বলার কিছুই নেই। কারণ একদম ঐতিহাসিক সত্য ঘটনার উপর নির্মিত হয়েছে ডানকার্ক। ডানকার্ক এমনিতেই নিজের রঙে রঙিন। শুধু দরকার ছিলো সেই সময়টাকে পারফেক্টভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার। আর সেটাই করে দেখিয়েছেন নোলান।

নিজের প্রথম মুভি হিসেবে হ্যারি স্টাইলস দারুণ অভিনয় করেছেন। স্ক্রিণ-টাইমও ভালোই পেয়েছেন। টম হার্ডির বরাবরের মতোই অনবদ্য। পুরো মুভিতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর পুরো চেহারা দেখা গিয়েছে। বাকিসময় এয়ারফোর্সের পাইলট হিসেবে শুধু একজোড়া চোখ আর ভ্রূ দিয়েই পর্দা কাঁপিয়ে দিয়েছেন। অভিজ্ঞ হিসেবে কেনেথ ব্রানাহ, মার্ক রাইল্যান্স, কিলিয়ান মার্ফি একদম পার্ফেক্ট। ডানকার্কে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে আমাকে ফিওন হোয়াইহেড এর অভিনয়। পুরো মুভিতে সংলাপ খুব কম থাকলেও শুধু এক্সপ্রেশন আর অভিনয় দিয়েই সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন কাস্টিং সকলে।

পুরো মুভিতে সিনেমাটোগ্রাফি ছিলো দেখার মতোন। সিনেমাটোগ্রাফির জন্য এবার Hoyte Van Hoytema অস্কার পেয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

নোলানের মুভির প্রাণ কি? অবশ্যই এবং অতি অবশ্যই হ্যান্স জিমারের মিউজিক। একদম এক্সপেক্টেশন লেভেলকে ছাড়িয়ে গেছেন জিমার। মুভির প্রত্যেকটা সিনের সাথে জিমারের ব্যাকগ্রাউন্ড! একদম পার্ফেক্টলি সিংক করেছে। আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলো জিমারের মিউজিকে। এই ফিল পিসির ছোট স্ক্রীণে কখনোই পাওয়া সম্ভব না। এবারের অস্কার বাগানোর তুমুল সম্ভাবনা রয়েছে হ্যান্স জিমারের।

নোলানের ড্রিম প্রজেক্ট হিসেবে সবাই জানে ‘ইনসেপশন’ কে। অনেকেই হয়তো জানেন না যে ‘ডানকার্ক’ ও নোলানের আরেক ড্রিম প্রজেক্ট। ১৯৯২ সালে স্ত্রীকে নিয়ে ফ্রান্সের ডানকার্কে বেড়াতে যাওয়ার সময় থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিলো ডানকার্ককে নিয়ে মুভি বানানোর। প্রায় ২৫ বছর পর তাঁর ইচ্ছা পূরণ হলো। একদম আসল ডানকার্ক বিচে গিয়েই প্রায় পুরোটা ফিল্ম শ্যুট করেছেন নোলান। কোনো VFX এর কারিকুরি নেই। ১৯৪০ এর সেই সময়কার ডানকার্ককে একদম সরাসরি যেনো পর্দায় উপস্থিত করেছেন তিনি।

সবমিলিয়ে ১০৬ মিনিটের মুভির পুরোটা সময় উপভোগ্য। ‘ডানকার্ক’ কিংবা নোলান অস্কার পাবে কি-না সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ডানকার্ককে আমার শুধু মুভি মনে হয়নি, মনে হয়েছে এক পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্সের মতো। ডানকার্ক, যে ঘটনা হয়তো পাল্টে দিয়েছে পুরো বিশ্বের ভাগ্য!

সবার কাছে একটাই অনুরোধ, যাদের সময় এবং সুযোগ আছে অবশ্যই হলে গিয়ে ডানকার্ক দেখবেন। ডানকার্কের পুরোপুরি মজা পাবেন বিগ স্ক্রিণেই, ল্যাপটপ বা পিসির ছোট স্ক্রীণে নই!

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dunkirk নোলানের মুভি রিভিউ

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles