The Arab-Israel Conflict: Its History in Maps


আজকের দিনে বিশ্ব যে ইসলামি সন্ত্রাস দ্বারা বিক্ষত হচ্ছে এবং তারই প্রতিক্রিয়ায় সমগ্র ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় ক্রিশ্চিয়ানিটি এবং ভারতে হিন্দুত্ব এবং বার্মায় বুদ্ধিস্ট উলম্ফন প্রবণতা ক্রমশঃ স্থিতিশীলতার সর্বনিম্ন বিন্দু অতিক্রম করে যাচ্ছে তার পশ্চাতে ‘আরব ভূমি’তে গত শতকের মধ্যকালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা প্রধানতম কারণ বলে অনেকেই মনে করেন।

জায়োনিস্ট আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে কেবল ইসরাইল রাষ্ট্রই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তার প্রকৃত ফলাফল তৈরি করেছে দুটি পরস্পর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ।

এই দৃষ্টিভঙ্গির একদিকে আছে মুসলমানদের প্রতি ইসরাইল তথা ইহুদি প্রভাবিত বৈশ্বিক সন্দেহ। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে আছে আরব দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা বাকি বিশ্বকে দেখার ও বিচার করা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। এই দুটি পরস্পর বিপরীত এবং শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অদূর ভবিষ্যতে কোথাও নিজেদের মধ্যে বোঝাপাড়া করে নিবে সেই সম্ভাবনা সুদূর পরাহত।

ইসরাইল ফিলিস্তিন সমস্যাকে একটু ভিন্নভাবে দেখা দরকার। তাছাড়া, মুসলমানদের মধ্যে ক্রম বর্ধমান উগ্রপন্থা, র‍্যাডিকেল বা পলিটিক্যাল বা সালাফি ইসলামের উত্থান কোন অবস্থাতেই প্রতিরোধ করা যাবে না। আর তা নাহলে, বিশ্বে মুসলমানরা আরো নিঃসঙ্গ, আরো বিপন্ন হবে। বস্তুত, তাদের কোন মিত্রই থাকবে না। লক্ষ্য করে দেখুন, রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের পাশে কেউ দাঁড়িয়েছে এমন বলা যাবে না।

এ বিষয়ে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আরব ভূমিতে। জোর করে এবং সহিংসতার মাধ্যমে। কিন্তু একথাও সমানভাবে প্রযোজ্য যে, জুদাইজমের বর্ণিত সাফেদ, তাইবেরিস, হেব্রন ও জেরুজালেম—এই চারটি পবিত্র শহরে ইহুদী বসতির কন্টিনিউশন বিবলিক্যাল টাইম থেকেই অব্যাহত ছিল। কখনো তাদের স্বাধীন রাজ্য(প্রায় ষোল’শ বছর, সলোমনের সময়কাল, ১০০০ খ্রিঃপূঃ, হাসমোনিয়ান জিউস কিংডম, ১৬৫-৬৩ খ্রিঃপূঃ) হিসেবে, কখনো এশিরিয়, ব্যাবিলনীয়, পারসিক, গ্রীক, মিশরীয় কিংবা রোমানদের অধীনত হিসেবে। বস্তুত, ৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাদের অব্যাহত উপস্থিতি ছিলই।

৬৬-৭৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান শাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ইহুদী বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে রোমানরা জেরুজালেম অধিকার করে নেয়, ধ্বংস করে ইহুদিদের পবিত্র দ্বিতীয় মন্দির, দাস হিসেবে রোমে নিয়ে যায় অসংখ্য ইহুদিকে। ইহুদি ডায়াস্পোরার এই শুরু। সেই দিক থেকে বিবলিক্যাল ক্যানানাইট, বা ফিলিস্তিন বা ইসরাইলের উপর তাদের অধিকার ইতিহাসের উত্তরাধিকার দ্বারা সমর্থিত।

মুসলমান বিজেতারা জেরুজালেমসহ পারিপার্শ্বিক সকল ভূমি ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ অধিকার করে নেয়। সেই সময় থেকে ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদিরা একরকম নিরাপদেই ছিল। কিন্তু ইউরোপের ক্রিশ্চান ক্রুসেডাররা ১০৯৯ থেকে ১২৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে বসবাসরত ইহুদিদের উপর নির্মম গণহত্যা পরিচালনা করে। মুসলিম মামলুক সুলতানরা ১২৯১ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডারদের সম্পূর্ণ পরাজিত করে পুনরায় ফিলিস্তিন অধিকার করে নেয়। ইতিহাসে মামলুকদের অন্যতম উদারনীতি হলো ফিলিস্তিনে ইহুদীদের বসবাসকে তারা উৎসাহিত করেন। আবার, ১৫১৭ সালে মামলুকদের পরাজিত করে তুরস্কের অটোমান সুলতানরা জেরুজালেম অধিকার করে নেয়। অটোমানদের সময়েও ই্হুদিগণ ইউরোপ হতে ক্রমাগত ফিলিস্তিনে আসতে থাকেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পরিবেশের সন্ধানে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইহুদি-মুসলিম, মুসলিম-খ্রিশ্চান, ইহুদি-খ্রিশ্চান রিলেশনগুলি চিরকালের জন্য পাল্টে দেয়। ইহুদি-মুসলিম সহাবস্থানের জায়গায় অবিশ্বাস-সন্দেহ-যু্দ্ধ জায়গা করে নেয়।

কিন্তু ইহুদি-খ্রিশ্চান রিলেশন তখনো ততটা শক্তিশালী হয়ে উঠেনি, যদিও ২ নভেম্বর, ১৯১৭ সালে স্যার আর্থার জেমস বেলফোর ফিলিস্তিনের আরব ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে রাশিয়ায় লক্ষ লক্ষ ইহুদি প্রোগ্রম নামের গণহত্যার শিকার হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৩৮-১৯৪৪ পর্যন্ত হিটলারের হাতে প্রায় ৫৮ লক্ষ ইহুদি যুদ্ধে, গণহত্যায়, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে, গ্যাস চেম্বারে জীবন দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে বিশ্বের বহু সমীকরণ বদলে গিয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে প্রতিষ্ঠা পেল স্বাধীন সার্বভৌম ইসরাইল রাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো আত্মরক্ষার প্রয়োজনে , কখনো জায়নবাদী ও সম্প্রসারণবাদী মনোভাবে ইসরাইল কর্তৃত্ববাদী আচরণ করে চলেছে। আরব রাষ্ট্রসমুহও ইসরাইলের অস্থিত্ব যে একটি বাস্তবতা তা মেনে না নিয়ে ১৯৪৮, ১৯৬৭, ১৯৭৩ সালে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবারই আরবরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এর পরেও ছোটবড় বিভিন্ন স্কেলে আরো কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে , কখনো লেবাননের সাথে, কখনো সিরিয়া বা হামাস হিজবুল্লাহর সাথে।

এই কনফ্লিক্ট গুলোর প্রতিটিতেই ইসরাইল কৌশলগতভাবে লাভবান হয়েছে।

আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘটিত এই দ্বন্ধ ও যুদ্ধসমুহ নিয়ে চমৎকার একটি গ্রাফিক্যাল বই The Arab-Israel Conflict: Its History in Maps । বইটি লিখেছেন অক্সফোর্ডের মার্টন কলেজ ফেলো Martin Gilbert এবং প্রকাশ করেছে Weidenfeld And Nicolson ।

অত্যন্ত তথ্য সমৃদ্ধ এই বইটির প্রেজেন্টেশন নিয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু আরব-ইসরাইল এফেয়ার্স ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে এটি এক অসাধারন বই।

লেখকের ফেসবুক : Lokman Hakim

What's Your Reaction?

লল লল
0
লল
আজাইরা আজাইরা
0
আজাইরা
চায়ের দাওয়াত চায়ের দাওয়াত
0
চায়ের দাওয়াত
জট্টিল মামা জট্টিল জট্টিল মামা জট্টিল
0
জট্টিল মামা জট্টিল
এ কেমন বিচার? এ কেমন বিচার?
0
এ কেমন বিচার?
কস্কি মমিন! কস্কি মমিন!
0
কস্কি মমিন!
কষ্ট পাইছি কষ্ট পাইছি
0
কষ্ট পাইছি
মাইরালা মাইরালা
0
মাইরালা
ভালবাসা নাও ভালবাসা নাও
0
ভালবাসা নাও

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Arab-Israel Conflict: Its History in Maps

log in

Become a part of our community!

reset password

Back to
log in
Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles